শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬

ঘুমের অদ্ভুত কিছু গুণাবলী

ঘুমাতে কে না ভালবাসে? ঘুমের কথা শুনলেই তো অনেকের ঘুম চলে আসে। তবে যাই বলুন না কেন, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবার জন্য ঘুমের অবদান অনস্বীকার্য। এজন্য ডাক্তাররা নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ঘুমানো অত্যন্ত আবশ্যক। স্বল্প নিদ্রার কারণে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে নানান জটিল রোগের কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পরিমিত ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর সময় আমাদের দেহে নিউরনের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হয় আর ঘুম অল্প হলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আমরা কাজে ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারি না।
স্বল্প নিদ্রার কারণে আমাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। এতে যেকোনো কাজে ত্রুটির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং আমরা খারাপ চিন্তা ভাবনা করি।
আমাদের দেহে ক্ষুধার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে “ল্যাপটিন” নামক প্রোটিন, আমরা যখন স্বল্প নিদ্রায় ভুগি তখন আমাদের দেহে ল্যাপটিনের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ক্ষুধা বেশি লাগে। এজন্যই, আমরা যখন রাত জাগি,তখন আমাদের ক্ষুধা পায়।
স্বল্প নিদ্রার কারণে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও স্বল্প নিদ্রা ডায়বেটিসের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। তাছাড়াও ঘুমের মাধ্যমে আমরা ত্বকের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা তাই সবসময়েই পরিমিত ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাদের মতে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমদের ঘুমাতে যাওয়া উচিত। ঘুমানোর আগে মাথা থেকে দুশ্চিন্তা যথাসম্ভব দূরে রাখা দরকার। একটি ভালো ঘুমের জন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধূমপান হতে বিরত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘুমানোর জন্য সবসময় একটি নীরব এবং শান্তিপূর্ণ স্থান বেছে নিতে হবে।
স্বল্প নিদ্রা দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- বাদাম) খেতে হবে। এছাড়াও, কলা এবং দধি স্বল্প নিদ্রা দূরীকরণে সহায়ক।
তবে খেয়াল রাখবেন,  পরিমিত ঘুমের কথাই কিন্তু আমি বলেছি। ঘুমের এত উপকারিতা জেনে সারাদিন ঘুমাতে থাকলে সেটাও কিন্তু বিপত্তি নিয়ে আসবে। স্বল্পনিদ্রা যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, ঠিক তেমনি অধিক নিদ্রাও শরীরের জন্য উপকার করেনা,বরং অপকারটাই করে। অধিক নিদ্রার ফলে আপনার অলসতা বৃদ্ধি পাবে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মেজমেজ অনুভব করবেন এবং শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি আপনার  যদি নিয়মিত অধিক নিদ্রা হয়, তবে সেটি আপনার কোন শারীরিক সমস্যর লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই অধিক ঘুম হলে সেটিও আপনার জন্য চিন্তার কারণই বটে!

এই যে থামেন… হুট হাট করে বাজার থেকে স্মার্টফোন কেনার আগে অবশ্যই লিখাটি পড়ুন

স্মার্টফোন কেনার আগে থেকে সতর্ক থাকলেই ভালো, কেনার পরে সমস্যা পড়লে পস্তাতে হবে। তাই আসুন জেনে নিই স্মার্টফোন কেনার আগে কিছু জরুরি তথ্য






ডিসপ্লের মান: স্মার্টফোন কেনার সময় পর্দার গুণগত মান দেখে নেওয়াটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় । সবচেয়ে ভালো মানের ডিসপ্লে ১০৮০পি (১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেলস) ফোনের দাম বেশ চড়া। এক্ষেত্রে কেনার আগে খেয়াল করে দেখতে হবে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখলে ছবি পরিষ্কার দেখা যায় কিনা। তবে সাধারণ মানের মোবাইলের ডিসপ্লে ৭২০পি-এর কম হয়ে থাকে।
ডিজাইন: যে কোনো স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর ডিজাইন। তাই আগে থেকেই মনস্থির করুন কোন ডিজাইনের স্মার্টফোন ভালো লাগে। বাজারের সব স্মার্ট ফোনের নজরকাড়া ডিজাইন রয়েছে। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং রুচি অনুযায়ী ডিজাইন পছন্দ করাই ভালো।
ওজন : স্মার্টফোন কিনতে যাওয়ার আগে কেমন ওজনের মোবাইল ফোনসেট কিনবেন তা একবার ভেবে নিবেন। কারণ মোবাইল ফোনসেট যত বড় হয় সাধারণত এর ওজনও তত বেশি হয়। তবে ফোনসেটে ব্যাটারি লাগানোর কারণেও সোবাইলের ওজন বেশি হয়।
পর্দার আকার: বড় স্ক্রিনের মোবাইল বেশি জনপ্রিয় হলেও সহজে বহন করতে চাইলে ছোট পর্দার মোবাইল নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে চার ইঞ্চি বা সাড়ে চার ইঞ্চি বা পাঁচ ইঞ্চি পর্দার মোবাইল ফোনেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।
অপারেটিং সিস্টেম: এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ৭, উইন্ডোজ অন্যতম। এক্ষেত্রে স্মার্টফোন কেনার আগে পছন্দেরটি বেছে নিন। কারণ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই গোটা ফোনের সব কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।
দাম : এমনিতেই মোবাইল ফোনসেটের দাম যত বেশি হবে, তার সবকিছুই তত ভালো হবে। তবে মোবাইল ফোনসেট কেনার আগে একই মডেলের অন্য কোনো সংস্করণ খুব শিগগিরই বাজারে আসলে তা থেকে কোনো সুবিধে পান কিনা কেনার আগে তা অবশ্যই ভেবে নিন।
ব্যাটারির শক্তি: মোবাইল ফোনটি কেমন তার ওপর ভিত্তি করে ব্যাটারির শক্তি নির্ধারিত হয়। তবে বড় মাপের স্ক্রিনের জন্য শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন হয়। আর এখন ৩০০০ এমএএইচ সবচেয়ে বেশি শক্তির ব্যাটারি হিসেবে বাজারে চালু রয়েছে।
ব্লু টুথ: ব্লু টুথ ছাড়া অন্য কোনো মোবাইলের সঙ্গে কিছুই লেনদেন করতে পারবেন না। তাই কেনার আগে ব্লু-টুথ আছে কিনা তা একবার যাচাই করে নিন।
র‌্যামের ক্ষমতা : ফোনের কার্যক্রমে দ্রুততা এনে দেয় র‌্যাম। কাজেই ফোন কিনতে গেলে ২ জিবি র‌্যাম নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তবে আধুনিক মোবাইলগুলো ৩ জিবি পর্যন্ত র‌্যাম নিয়ে বাজারে আসছে।
ওয়্যারলেস চার্জিং: তার ছাড়া চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা অবশ্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু নয়। তবে যেখানে সেখানে প্লাগ পয়েন্ট না থাকার সমস্যায় ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম বেশ ভালো।
থ্রি-জি নাকি ফোর-জি:  দেশে সবেমাত্র থ্রি-জি কানেকশন চালু হয়েছে। ডাটা কানেকশনের গতি নির্ভর করে এর ওপর। আরো দ্রুত কানেকশন দেয় ফোর-জি। এ যুগের স্মার্টফোনের জন্য থ্রি-জি কানেকশন নিতে পারে এমন মোবাইল সাধারণত বেশি ভালো।
পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইট ব্যবহার করুন: ইন্টারনেট থাকলে নানা সাইটে ঢুঁ মারতেই হয়। তবে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইটে ঘোরাফেরা করবেন।
অ্যাক্সেসরিজ: অ্যাক্সেসরিজ সব মোবাইলের সঙ্গেই দেওয়া হয়। তবে অ্যাক্সেসরিজ দেখে ফোন পছন্দ করার দরকার নেই। স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। আর ভালো মানের ফোনের অ্যাক্সেসরিজও বেশ ভালো হয়।
সফটওয়্যার আপডেট রাখা: ফোনের সফটওয়্যার প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। যদি নিজের ফোনের সফটওয়্যারগুলো আপডেট রাখেন তাহলে যন্ত্রটি সুন্দরমতো কাজ করবে। একইসঙ্গে ফোনটিও আরো অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।
কন্ট্রাক্ট ফোন নেওয়ার জন্য: ইউরোপ-আমেরিকাতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অফার দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে এবং মোবাইলগুলোর মডেলের সঙ্গে দাম ও সুবিধাগুলোর তুলনা করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নেবেন।
অ্যাপ্লিকেশন: মোবাইল ফোনসেটটি যেসব অ্যাপস সাপোর্ট করে তাই ব্যবহার করুন। আর যেসব অ্যাপস মোবাইলের জন্য নয় তা অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন না। তা ছাড়া মোবাইল ফোনসেট অনুযায়ী আলাদাভাবে অ্যাপসের কালেকশন ইন্টারনেটে দেওয়া থাকে। সেখান থেকেই ফোনটির জন্য অ্যাপস বাছাই করে নেওয়া উচিত।
শক্তপোক্ত ফোন: পর্দাতে সহজে দাগ যেন না পড়ে কিংবা হাত থেকে পড়ে গেলেও যেন ভেঙে বা ফেটে যাবে না এমন শক্তপোক্ত ফোনই বাছাই করা উচিত।


স্মার্টফোন কিনবেন, তাহলে এই টিপস গুলো জেনে নিন

স্মার্টফোন হচ্ছে বর্তমান সময়ের পকেট কম্পিউটার। স্মার্টফোন কেবল কথা বলা, এসএমএস ছাড়াও ই-মেইল পাঠানো, ভিডিও কনফারেন্স, সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ, ছবি তোলা, ভিডিও করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের বিক্রি ও চাহিদা দুটিই বেড়েছে। তাই স্মার্টফোন কেনার পূর্বে একজন ক্রেতাকে নিচের বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* শুধু মডেলের দিকে না তাকিয়ে এর অভ্যন্তরীণ অপারেটিং সিস্টম সফটওয়্যার হিসেবে কি ব্যবহার করা হয়েছে তা লক্ষ করুন। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল ওএস, অ্যান্ড্রয়েড, নকিয়া সিম্বিয়ানসহ বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট ভার্সন ব্যবহার করাই উত্তম।

* ফোনটির ডিসপ্লে সুপার অ্যালমন্ড কিনা তা নিশ্চিত হোন। কেননা টিএফটি ডিসপ্লের তুলনায় অ্যালমন্ড ডিসপ্লের রেজুলেশন ও টাচ্ সেনসিটিভিটি অনেক ভালো।
* ডুয়েলকোর প্রসেসরের স্মার্টফোনগুলো ভালো। এটি উচ্চ গতির মাল্টিটাস্কিংসহ এর ব্যাটারির লাইফ বেশি। এক্ষেত্রে ফোনটির র‌্যাম ৫১২ মেগাবাইটের বা এর ওপরে হলে ভালো হয়।
* ফেনটিতে ওয়াই-ফাই ও থ্রিজি সাপোর্ট সুবিধা আছে কি না তা নিশ্চিত হোন। উন্নত ইন্টারনেট সেবা পেতে এ ফাংশন দুটি আপনাকে সাহায্য করবে।
* ফোনটির সামনে ও পেছনে একটি করে মোট দুটি ক্যামেরা আছে কি না তা দেখে নিন। কেননা, সামনে ক্যামেরা না থাকলে ভিডিও কল করা যাবে না। তাছাড়া, পেছনের ক্যমেরাটি ৮ মেগাপিক্সেলের ওপরে হলে ভালো হয়।
* সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে কাজ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্রাউজিং সুবিধাসহ চ্যাটিং অপশনগুলো কেমন তা যাচাই করে নিন।
* মেমোরি ক্যাপাসিটি কেমন ও এতে এক্সটেনডেট মেমোরি ব্যবহার করা যায় কি না তা দেখে নিন। কেননা, মেমোরি ক্যাপাসিটি কম হলে অধিক অডিও ও ভিডিও ধারণ করা যায় না। এক্ষেত্রে ৮ জিবির ওপরে হলে ভালো হয়।
* জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) আছে কি না এবং থাকলেও তা কাজ করে কি না তা খেয়াল করুন।
* ক্যামেরার সঙ্গে উন্নতমানের ফোকাসের ব্যবস্থা আছে কি না তা চেক করুন। রাতে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে এটি আপনাকে সাহায্য করবে।
* বর্তমানে ভয়েস কমান্ড ফাংশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ অপশনটি আপনার দৈনন্দিন কাজকে আরো গতিশীল করবে। সুতরাং আপনার ফোনটিতে ভয়েস কমান্ড ফাংশনের ব্যবস্থা আছে কি না দেখে নিন।
* স্মার্টফোন সর্বদা ভালো ব্র্যন্ডের কেনাই উত্তম।
* কেনার সময়ের ওয়্যারেন্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

নন-রিমুভেবল ব্যাটারি বনাম রিমুভেবল ব্যাটারি | আপনার কোন ব্যাটারি ওয়ালা ফোন কেনা উচিৎ? – বিস্তারিত টিউন

বন্ধুরা আমি জানি এরকম অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন থাকে একটি রিমুভেবল ব্যাটারি এবং একটি নন-রিমুভেবল ব্যাটারি নিয়ে। আজকের টিউনটি পড়তে থাকুন কেনোনা আমি আজ এই বিষয় নিয়ে অনেক ভালো একটি বর্ণনা দিতে চলেছি যা আপনার মনে সন্দেহ এবং ভুল ধারণা দুটিই দূর করে দেবে। আপনি যদি নিয়মিত পাঠক হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই জানেন যে আমি ভূমিকাতে বেশি সময় লাগাতে একদম পছন্দ করি না, তাই চলুন মূল বিষয়ের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া যাক।

নন-রিমুভেবল ব্যাটারি

আপনারা হয়তো লখ্য করে থাকবেন যে অ্যাপেল আইফোন শুরু থেকেই তাদের ফোনে নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে আসছে। তাতে কিন্তু কারো কোন মাথার ব্যাথা ছিল না। কিন্তু যেই স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি এস৬ ফোনে নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে দিল তাতেই হাজারটা টিউমেন্টের সূচনা ঘটতে আরম্ভ করে দিল। যাই হোক, অনেক ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন থাকে যে নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ওয়ালা ফোন বেশি ভালো না রিমুভেবল ব্যাটারি ওয়ালা ফোন বেশি ভালো? আবার আমরা প্রায় সবাই মানুষের শোনা কথা নিয়ে বেশি নাচতে পছন্দ করি। আপনাকে হয়তো কোন বন্ধু এসে বল্ল যে নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ফোন একদম বেকার, ব্যাটারি খোলা যাবে না, একদমই কেনা উচিৎ নয়। আর সেটা শুনে আপনিও তালে তাল মেলালেন। আর আপনিও আরো ১০ জন বন্ধুকে গিয়ে একই গান শুনালেন। তো আসলে কোন বিষয়ের উপর ভুল ধারণা এভাবেই বিস্তার লাভ করে। আজকে টিউনের একদম গভীরে প্রবেশের পূর্বে একটি জিনিষ জেনে নিন আর সেটা হলো বাস্তবিক ভাবে রিমুভেবল ব্যাটারি বা নন-রিমুভেবল ব্যাটারি বলে কিছু থাকে না। কি আশ্চর্য হয়ে গেলেন? বিশ্বাস হচ্ছে না তো? দাঁড়ান, এখনো লাইন পুরা হয়নি। আসলে মোবাইল ফোনে যা থাকে তা হল একটি ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি এবং আরেকটি হল নন ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি।
অর্থাৎ এক ফোন এমন থাকে যেখানে ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ইউজার মানে একজন ব্যবহারকারী, মানে আপনি বা আমি। ব্যবহারকারী নিজে থেকে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারে বলে ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি এবং একজন ইউজার নিজে থেকে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে না পারলে অর্থাৎ যে ফোনে পারে না সেটি হল নন ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি ফোন। নন ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি তো আপনি বা আমি পরিবর্তন করতে পারবো না কিন্তু যেকোনো মোবাইল রিপেয়ার শপে বা মোবাইল সার্ভিস সেন্টারে ঐ বাক্তি অনেক সহজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করে দিতে পারবে। তো এই সমস্যা তো দূর যে ব্যাটারি বেড় করা সম্ভব এবং পরিবর্তন করাও সম্ভব। এবার চলুন আলোচনা করি নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কেন পড়লো আমাদের।

নন-রিমুভেবল ব্যাটারির প্রয়োজনীয়তা

আগের দিনের ফোনে কিন্তু এমনটা হতো না কিন্তু আজকের দিনে এটি একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে যে আপনার ফোনের ব্যাটারি নন-রিমুভেবল হবে। এর পেছনে আসলে আলাদা আলদা দুই তিন কারন রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
  • নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহারের সবচেয়ে প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ কারনটি হলো আপনার ফোনের ডিজাইন অনেক ভালো বানানো সম্ভব হয়। আপনার ফোনে যদি একটি নন ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি থাকে তবে আপনার ফোনের ডিজাইন অনেক স্লিম হওয়া সম্ভব হবে, আপনার ফোন ওজনে অনেক হালকা হওয়া সম্ভব হবে। আপনার ফোনটি মেটাল দিয়ে বানানো সম্ভব হবে এবং ফোনের ডিজাইন প্রিমিয়াম হওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু আপনার ফোনে যদি ইউজার রিমুভেবল ব্যাটারি থাকে তবে ফোনের ডিজাইন মোটা হতে পারে, ওজনে ভারি হতে পারে। ফোনের পেছনের অংশে হয়তো প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা থাকবে ফলে ফোনে প্রিমিয়াম লুক দেখতে পাওয়া যাবে না। তো ফোনের লুক পরিবর্তন করতে এবং একটি ভালো ফোন তৈরি করতে আমাদের প্রয়োজন পরে নন-রিমুভেবল ব্যাটারির।
  • আগের দিনে, নোকিয়া ফোন গুলোর ক্ষেত্রে যখন ২-৩ বছরের মধ্যে ফোনের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতো তখন বাজার থেকে যেকোনো সস্তা ব্যাটারি কিনে নিয়ে এসে ব্যবহার করা হতো। সে সব ব্যাটারির কোয়ালিটি একদম বেকার হতো। আবার নোকিয়ার নামেই অনেক নকল ব্যাটারি কিনতে পাওয়া যেতো। কিন্তু ঐ সকল ব্যাটারি এনে ফোনে লাগানোর পরে কিছু দিন পর দেখা যেতো যে ব্যাটারি ফোনের ভেতর ফুলে গেছে। আবার কখনো কখনো ফোনের ব্যাটারিতে সর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগে গেছে এমনটাও শুনতে পাওয়া যেতো। কিন্তু দোষ কাকে দেওয়া হতো? আপনার ফোন কোম্পানিকে। বলা হতো আরে ভাই অমুক কোম্পানির ফোন ব্লাস্ট হয়ে গেছে। তো এই অবস্থায় এখন মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানিরা ভাবে যে তারা তাদের ফোনে একটি সিল্ড ব্যাটারি লাগিয়ে দেয়। যাতে একজন সাধারন ইউজার তা না খুলতে পারে। এবং ব্যাটারি নষ্ট হলে কেবল মাত্র অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে সেটি রিপ্লেস করানো হয়। ফলে ব্যবহারকারী একটি সস্তা ব্যাটারি না লাগিয়ে বরং একটি ভালো মানের আসল ব্যাটারি লাগাতে পারে। এর ফলে আপনার সুরক্ষাও বজায় থাকবে এবং কোম্পানির সুনামও বজায় থাকবে।
  • তৃতীয় কারন হলো ব্যাটারি পরিবর্তনের সময় দেখতে পাওয়া যায় আপনার ফোন কোম্পানি দ্বারা প্রস্তুতকৃত ব্যাটারির মূল্য একটু বেশি হয়ে থাকে। যেমন মনে করুন আপনার ফোনে রিমুভেবল ব্যাটারি লাগানো আছে। এবং আপনি পরিবর্তন করতে যাওয়ার সময় দেখলেন যে আপনার ফোন কোম্পানির ব্যাটারির দাম দুই হাজার টাকা এবং একই মানের অন্য কোম্পানির ব্যাটারির দাম ১৫০০ টাকা। তো কেন আপনি ৫০০ টাকা বেশি খরচ করবেন, যেখানে অন্য কোম্পানি কম টাকায় একই মান সরবরাহ করছে। তো এই অবস্থায় ফোন কোম্পানি বেশি মুনাফা অর্জন করা থেকে বাঁধা পায়। এজন্য কিছু কোম্পানি তাদের ফোনে নন-রিমুভেবল ব্যাটারি লাগানোর সিদ্ধান্ত এই জন্য নেয় যে ব্যবহারকারী তাদের কাছেই ব্যাটারি পরিবর্তন করতে আসবে। এবং এতে তারা সামান্য বেশি মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

নন-রিমুভেবল ব্যাটারি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

এবার চলুন আলোচনা করি আমাদের মনের মধ্যে আটকে থাকা কিছু ভুল ধারণা নিয়ে। দেখুন অনেকে মনে করে থাকেন যে নন-রিমুভেবল ব্যাটারির ফোন মানে আর পরে ব্যাটারি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এ বিষয় তো আপনি পরিষ্কার ভাবে জেনেই গেছেন যে আসলে ব্যাটারি পরিবর্তন করা সম্ভব। হাঁ, ২-৩ বছর পরে প্রায় সব ফোনেরই ব্যাটারির সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আপনি ভেবে দেখুন তো আপনি কি কোন ফোন একটানা ৩ বছর ব্যবহার করেন? হাঁ অনেক সময় কোন ফোন ভালো সার্ভিস দেয় বলে একটানা ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যে কোন ফোন ১-২ বছর ব্যবহার করার পরে আমরা বিক্রি করে দেই। এবং তখনকার সময় কোন নতুন ফোন কিনে ফেলি। তো এই অবস্থায় আপনাকে ব্যাটারি পরিবর্তন করার প্রয়োজন পরবেই না। আর যদি পরেও কি সমস্যা? অনেক সহজ ব্যাপার, যে কাজ আপনি নিজে করতেন সেটা ব্যাস কোন সার্ভিস সেন্টারে গেলেই ২-৩ মিনিটে করে দেবে। এবং তারা আপনার থেকে অবশ্যই বেশি দক্ষ।
আবার অনেকে মনে করেন যে ফোনের ব্যাটারি ইউজার রিমুভেবল হওয়াটা অনেক বেশি সুবিধার। একসাথে দুইটি ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারবো। একটি চার্জ করে ব্যাকআপ হিসেবে রাখবো এবং আরেকটি ব্যাটারি ফোনে লাগানো অবস্থায় থাকবে। সত্যি? আচ্ছা আপনি আমাকে বলুন তো, আপনি কি কখনো এমন করে আপনার ফোন ব্যবহার করেছেন? হাঁ, এটা করা যায়। একদম যে অসম্ভব সেটা বলছি না। কিন্তু আপনি কেন আরেকটি ব্যাটারি কিনতে টাকা ইনভেস্ট করবেন? আর আজকের দিনে কে একসাথে দুইটি ব্যাটারি নিয়ে ঘোরাফেরা করে? যখন আপনার কাছে দুটি ব্যাটারি থাকবে তখন ভাব্বেন আরে ফোনে তো বেশি চার্জ নাই তো ব্যাটারি পাল্টাই। আবার ভাব্বেন তো আরেকটা ব্যাটারি চার্জ করি। তারপরে ভাব্বেন ফোনটা চার্জে লাগাই, তারপর আবার ব্যাটারি, আবার ফোন। উফফ……

আপনার লাইফ একদম কঠিন হয়ে যাবে। আজকের দিনে ব্যাটারি চার্জ সমস্যা এড়ানোর জন্য আমরা একটি ভালো পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে থাকি। যেটা অনেক ভালো একটি সমাধান। তাছাড়া আপনি বাড়িতে থাকুন, অফিসে থাকুন, গাড়িতে থাকুন, সবজায়গাতেই কিন্তু অনেক সহজে আপনার ফোন চার্জ করতে পারবেন এবং ব্যবহার করতে পারবেন।
তো ফোনের ব্যাটারি বারবার পরিবর্তন করার চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলাটায় উত্তম। কেনোনা এমনটা করতে গিয়ে ফোনের পেছনের অংশটি ঢিল হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া বেশি ব্যাটারি পরিবর্তনের ফলে ব্যাটারি পিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এবং ব্যাটারির কানেক্টরে দাগ পরে গিয়ে ব্যাটারি অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া নন-রিমুভেবল ব্যাটারির ফোনে সিম এবং মেমোরি কার্ড খোলা মেলা করা অনেক বেশি সুবিধার হয়ে থাকে।
এবার আসি সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা নিয়ে। অনেকে মনে করেন যে ফোন হাং হয়ে গেলে কি করবো? যেমনটা দেখা যেতো আগের নোকিয়া সিম্বিয়ান ফোন গুলোতে। ফোন হাং হয়ে গেলে ব্যাটারি খুলে ফোন রি-স্টার্ট করতাম। কিন্তু ফোনের ব্যাটারিই না খোলা গেলে কীভাবে ফোন রি-স্টার্ট করবো? দেখুন এখনকার দিনের মডার্ন স্মার্টফোন গুলো অনেক কম হাং হয় আর যদি হাং হয়েও যায় তবে ব্যাটারি না খুলে রি-স্টার্ট করার সুবিধা রয়েছে। আপনি যদি আইফোন ব্যবহার করেন তবে আপনার ফোনের পাওয়ার বাটন এবং হোম বাটন একসাথে ১০ সেকেন্ডের জন্য চেপে রাখুন আপনার ফোন রি-স্টার্ট হয়ে যাবে। আপনি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করলে, আপনার ফোনের পাওয়ার বাটন কিছু সময় ধরে রাখুন, আপনার ফোন রিস্টার্ট হয়ে যাবে। তো এটা নিয়ে মাথা ব্যাথা করার কোন চিন্তা নেই বন্ধুরা।

শেষ কথা

তো এই ছিল কারন যার জন্য নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা পড়েছিলো আমাদের। আর এটি অবশ্যই ভালো একটি বিষয়। কেনোনা এটি ব্যবহারে আপনার ফোনের ডিজাইন অনেক বেশি সুন্দর হয়ে যায়, এবং এটি অবশ্যই মূল্য রাখে। আর তাছাড়া আমাদের অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ। আমাদের অবশ্যই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিৎ। আর তবেই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে স্মার্টফোন প্রজন্ম। আর আপনার অবশ্যই এটার উপর কোন ভাবার দরকার নেই যে আপনার ফোনের ব্যাটারি রিমুভেবল না নন-রিমুভেবল অ্যাবল। ব্যাস একটি ভালো মানের ব্যাটারি হলেই হলো যেটা আপনি চার্জ এবং ডিসচার্জ করবেন। যাই হোক বন্ধুরা আজকের টিউন এই পর্যন্তই ছিল। আশা করছি টিউনটি অবশ্যই উপভোগ করেছেন। তাই অবশ্যই টিউনটি শেয়ার করে আমাকে সমর্থন করুন। এবং অবশ্যই আপনার যেকোনো প্রশ্ন বা মতামত জানাতে নিচে আমাকে টিউমেন্ট করুন।

স্মার্টফোন কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল করবেন

স্মার্টফোন হচ্ছে বর্তমান সময়ের পকেট কম্পিউটার। স্মার্টফোন কেবল কথা বলা, এসএমএস ছাড়াও ই-মেইল পাঠানো, ভিডিও কনফারেন্স, সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ, ছবি তোলা, ভিডিও করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের বিক্রি ও চাহিদা দুটিই বেড়েছে। তাই স্মার্টফোন কেনার পূর্বে একজন ক্রেতাকে নিচের বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* শুধু মডেলের দিকে না তাকিয়ে এর অভ্যন্তরীণ অপারেটিং সিস্টম সফটওয়্যার হিসেবে কি ব্যবহার করা হয়েছে তা লক্ষ করুন। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল ওএস, অ্যান্ড্রয়েড, নকিয়া সিম্বিয়ানসহ বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট ভার্সন ব্যবহার করাই উত্তম।

* ফোনটির ডিসপ্লে সুপার অ্যালমন্ড কিনা তা নিশ্চিত হোন। কেননা টিএফটি ডিসপ্লের তুলনায় অ্যালমন্ড ডিসপ্লের রেজুলেশন ও টাচ্ সেনসিটিভিটি অনেক ভালো।
* ডুয়েলকোর প্রসেসরের স্মার্টফোনগুলো ভালো। এটি উচ্চ গতির মাল্টিটাস্কিংসহ এর ব্যাটারির লাইফ বেশি। এক্ষেত্রে ফোনটির র‌্যাম ৫১২ মেগাবাইটের বা এর ওপরে হলে ভালো হয়।
* ফেনটিতে ওয়াই-ফাই ও থ্রিজি সাপোর্ট সুবিধা আছে কি না তা নিশ্চিত হোন। উন্নত ইন্টারনেট সেবা পেতে এ ফাংশন দুটি আপনাকে সাহায্য করবে।
* ফোনটির সামনে ও পেছনে একটি করে মোট দুটি ক্যামেরা আছে কি না তা দেখে নিন। কেননা, সামনে ক্যামেরা না থাকলে ভিডিও কল করা যাবে না। তাছাড়া, পেছনের ক্যমেরাটি ৮ মেগাপিক্সেলের ওপরে হলে ভালো হয়।
* সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে কাজ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্রাউজিং সুবিধাসহ চ্যাটিং অপশনগুলো কেমন তা যাচাই করে নিন।
* মেমোরি ক্যাপাসিটি কেমন ও এতে এক্সটেনডেট মেমোরি ব্যবহার করা যায় কি না তা দেখে নিন। কেননা, মেমোরি ক্যাপাসিটি কম হলে অধিক অডিও ও ভিডিও ধারণ করা যায় না। এক্ষেত্রে ৮ জিবির ওপরে হলে ভালো হয়।
* জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) আছে কি না এবং থাকলেও তা কাজ করে কি না তা খেয়াল করুন।
* ক্যামেরার সঙ্গে উন্নতমানের ফোকাসের ব্যবস্থা আছে কি না তা চেক করুন। রাতে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে এটি আপনাকে সাহায্য করবে।
* বর্তমানে ভয়েস কমান্ড ফাংশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ অপশনটি আপনার দৈনন্দিন কাজকে আরো গতিশীল করবে। সুতরাং আপনার ফোনটিতে ভয়েস কমান্ড ফাংশনের ব্যবস্থা আছে কি না দেখে নিন।
* স্মার্টফোন সর্বদা ভালো ব্র্যন্ডের কেনাই উত্তম।
* কেনার সময়ের ওয়্যারেন্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।

ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর কিছু উপায়

বর্তমান সময়ে বলা যায় চারদিকে স্মার্টফোনের বিপ্লব চলছে। আইটি প্রফেশনাল, বিজনেস এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে, শিক্ষক, ছাত্র, গৃহিণী কিংবা আমজনতা সকলের হাতেই এখন স্মার্টফোন শোভা পাচ্ছে। বলা যায় আধুনিক জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্ট ফোন।
বাজারে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্ট ফোন থাকলেও অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্ট ফোন গুলোই চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। তুলনামূলক কম মূল্যে অধিক সুবিধা, বিভিন্ন ধরণের কাস্টোমাইজেশন সুবিধা থাকার কারণেই স্মার্টফোনের বাজারে অ্যান্ড্রয়েড এত জনপ্রিয়।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্রায়ই যে ব্যাপারটি নিয়ে বিরক্তি এবং অভিযোগ করে থাকেন তা হলো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যাটারি ব্যাকআপ। শক্তিশালি প্রসেসর, র‍্যাম, হাই রেজুলেশন ডিসপ্লে এবং নানাবিধ ব্যবহারের কারণর অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি থেকেও অনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারকারী ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাচ্ছেন না।
অথচ সহজ কিছু টিপস ফলো করে সহজেই ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে নেয়া সম্ভব।আজকে আপনাদের জন্য থাকছে অ্যান্ড্রয়েডে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর কিছু কৌশল। চলুন তবে দেখে নেই কিভাবে কি করবেন

সাধারণ কর্মপদ্ধতি

১) বিনা প্রয়োজনে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের  Wifi, GPS, Bluetooth, 3G কানেক্টিভিটি অন করে রাখবেন না। Wifi, GPS, Bluetooth, 3G প্রচুর ব্যাটারি ইউটিলাইজ করে থাকে।
২) আপনার ডিভাইসটি অটো ব্রাইটনেস সমর্থিত হলে সেটি অটো করে রাখাই ভাল। অটো ব্রাইটনেস না থাকলে ম্যানুয়ালি সেট করে নিলে ভাল ব্যাকআপ পাওয়া যায়। সব সময় ডিসপ্লে ব্রাইটনেস ১০০ তে দিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। নিচের ডাটা অনুযায়ী ব্রাইটনেস সেট করে আমরা ব্যাটারি ব্যাকআপে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখেছি।
দিনের বেলা
ঘরের ভিতরঃ 30-40%
ঘরের বাইরেঃ 50-70%
রাস্তায়ঃ 90-100%
রাতের বেলা
ঘরের ভিতরঃ 05-30%
ঘরের বাইরেঃ 15-40%
রাস্তায়ঃ 20-40%
মোট কথা, অযথা বেশি ব্রাইটনেস ব্যবহার না করে সময় উপযোগী ব্রাইটনেস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার দৃষ্টি শক্তি যেমন ভাল থাকবে, ব্যাটারি ব্যাকআপও বৃদ্ধি পাবে অনেক গুণ।
৩) লাইভ ওয়ালপেপার জিনিসটা ব্যবহার না করাই শ্রেয় কেননা এটি বেশ ভাল ব্যাটারি ইউটিলাইজ করে। বিশেষ কোনও প্রয়োজনে যেমন বন্ধু মহলে ডিভাইসটির আকর্ষণ বাড়াতে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন তবে নিজের হাতে আসতেই সাধারণ ওয়ালপেপার সেট করে নিন। কারও কারও মতে কালো রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়।
৪) সেন্সর ব্যবহার করে কাজ করে এমন কোনও অ্যাপস বন্ধ করতে চাইলে কেবল মিনিমাইজ না করে পুরোপুরি বন্ধ করবেন। আইসক্রিম স্যান্ডউইচ এবং এর পরবর্তি অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনগুলোতে খুব সহজেই হোম বাটন চেপে ধরে সেই এপস টাকে ডানে বামে সোয়াইপ করে বন্ধ করতে পারবেন। অন্যান্য ভার্সনের ক্ষেত্রে কোনও ভাল টাস্ক ম্যানেজার ব্যবহার করুন।
৫) একটার বেশি Antivirus কিংবা Battery Saver অ্যাপস কখনও ব্যবহার করবেন না। Juice Defender অ্যাপসটি ব্যাটারি সেভার হিসেবে বেশ কাজের। গুগল প্লে স্টোর থেকে এটি বিনা মুল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
৬) রুটেড ডিভাইস ব্যবহারকারীগন অ্যাপ রান টাইম ম্যানেজমেন্ট এর জন্য  Greenify অ্যাপটি ব্যাবহার করতে পারেন। এতে করে অযাচিত, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস আপনার ডিভাইসের ব্যাকগ্রাউন্ড এ রান করতে পারবে না, ফলে ব্যাটারি অনেক বাড়বে। এই অ্যাপটিও প্লে স্টোর থেকে বিনা মুল্যে ডাউনলোড করা যাবে।
এতক্ষন যে কৌশলগুলো অনুসরণ করতে বলা হয়েছে সেগুলো আমরা অনেকেই জানি। এবার আসুন কিছু অ্যাডভান্সড কৌশল জেনে নেই।

অ্যাডভান্সড কর্মপদ্ধতি

কৌশলগুলো কেবল মাত্র  Li-ion ব্যাটারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রায় সব ফোনেই আজকাল Li-ion ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। অনেকে এ পদ্ধতিগুলোর সাথে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু ইন্টারনেট ঘেঁটে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এ পদ্ধতিতেই ভাল ফল পেয়েছি। আশা করি আপনারাও এতে উপকৃত হবেন।  
  • ব্যাটারিকে সহজে ১৫-২০এর নিচে ড্রেইন হতে দিবেন না অর্থাৎ ব্যাটারি ১৫-২০% হলেই  দেরি না করে চার্জে লাগাবেন।
  • নিতান্তই বাধ্য না হলে চার্জে লাগানো অবস্থায় ফোন চালাবেন না।
  • চার্জ একটানা দেয়ার চেষ্টা করবেন। খেয়াল রাখবেন একবার চার্জে লাগালে অন্তত যাতে ৩৫চার্জ একবারেই হয়। আর পুরো একটানা দিতে পারলেতো কথাই নেই।
  • ব্যাটারি ১০০% হওয়ার পর এক সেকেন্ডও আর চার্জে লাগিয়ে রাখবেন না। ১০০% চার্জ হওয়ার সাথে সাথেই সেটি আনপ্লাগ করুন। মনে রাখবেন রাত্রে ফোন চার্জে লাগিয়ে কখনও ঘুমাবেন না।
  • ঘন ঘন আপনার ফোনটি চার্জ দিবেন না। চার্জ ৫০% এর উপর থাকলে অযথাই চার্জে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ৩৫-৩০% এর নিচে নামার পর চার্জে দেওয়া যাবে।
  • যেসব অ্যাপস এর Wakelock আছে সেসব অ্যাপস পরিহার করার চেষ্টা করুন। Wakelock আছে কিনা তা Better Battery Stats এই অ্যাপসটি দিয়ে দেখে নিতে পারেন।
  • প্রতি মাসে বা বিশ দিনে একবার ব্যাটারি সম্পূর্ণ ০% হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, বন্ধ হলে আবার চালান,কিছুক্ষন চলে আবার বন্ধ হলে একটানা কোন বিরতি ছাড়া ১০০% পর্যন্ত চার্জ দিন, ১০০% হলে ফোন চার্জ থেকে খুলুন এবং ফোন বন্ধ করুন। এবার ব্যাটারি খুলে তা আবার সেটে লাগান এবং সেট অন করুন। দেখবেন ১০-১২% চার্জ কমে গেছে। এ অবস্থায় ফোনটি আবার চার্জে দিন এবং চার্জ ১০০% হলে ডিভাইস আনপ্লাগ করুন। এই কাজটা প্রতি ২০-৩০ দিনে একবার করবেন।
উপরের টিপস গুলো যথাযথ অনুসরণ করে আপনারা আপনাদের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে নিতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। তো আর দেরি না করে যারা তাদের ব্যাটারি নিয়ে হতাশায় ভুগছেন, তারা কৌশলগুলো অনুসরণ করুন। আর এ সংক্রান্ত কোন মতামত আমাদের জানাতে ভুলে যাবেন না যেন।


সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬

আট উপায়ে স্মার্টফোনের চার্জ ধরে রাখুন

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা আধুনিক প্রযুক্তির সব সুবিধা ভোগ করলেও একটা দুর্ভোগ রয়েছে। সেটা হলো দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যা।
অ্যানড্রয়েড, আইফোন ও উইন্ডোজ সব অপারেটিংয়ে চালিত স্মার্টফোনেই রয়েছে এ সমস্যা। যাদের বেশির ভাগ সময়ই স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়, তাদের দিনে অন্তত দুবার তো চার্জ দিতেই হয়। আর সে জন্য সঙ্গে রাখতে হয় আলাদা একটি পাওয়ার ব্যাংক


ব্যাটারির চার্জ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন রকমের অ্যাপ্লিকেশনও রয়েছে। তবে এর বাইরেও স্মার্টফোন ব্যবহারের কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো মেনে চললে কিছুটা সাশ্রয় করতে পারবেন ব্যাটারির চার্জ। এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে।
১. ডিসপ্লের ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে ফেলুন
এটা হয়তো অনেকেই জানেন এবং প্রয়োগ করে থাকেন। যাঁরা এখনো এই কাজটা করেন না, তাঁরা ডিসপ্লের ঔজ্জ্বল্য বা ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা শুরু করুন। এ পদ্ধতি ল্যাপটপ, ট্যাবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
২. কালো ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন
অ্যামোলেড স্ক্রিনের ফোনে কালো বা এ ধরনের রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করলে চার্জ কম খরচ হয়। কারণ, অ্যামোলেড স্ক্রিনের আলো খরচ হয় বিভিন্ন রঙের পেছনে। তাই যত রঙিন ওয়ালপেপার দেওয়া হবে, আলোর খরচ বাড়বে, সে সঙ্গে চার্জও খরচ হবে।
৩. লো-পাওয়ার মোড
আপনার ফোনে যদি অ্যানড্রয়েড ৫ দশমিক শূন্য বা এর পরের ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেম থাকে, তাহলে আপনার কপাল ভালো। কারণ, ফোনের চার্জ ১৫ শতাংশের কম হলেই এসব অপারেটিং সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লো-পাওয়ার মোড চালু হয়ে যায়। অ্যানড্রয়েড অপারেটিংয়ের মার্শম্যালো ভার্সনে রয়েছে ‘ডোজ’ নামে একটি নতুন ফিচার। স্মার্টফোনের চার্জ কমে গেলে এই ফিচার ফোনটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইবারনেশন মোডে নিয়ে যায় আর অনেকক্ষণ ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা অ্যাপগুলো বন্ধ করে দেয়।
৪. লক স্ক্রিন নোটিফিকেশন চালু করুন
স্মার্টফোনের চার্জ বাঁচানোর আরেকটি ভালো বুদ্ধি হচ্ছে লক স্ক্রিন নোটিফিকেশন চালু করে রাখা। এতে বারবার আপনাকে লক খুলে নোটিফিকিশেন দেখতে হবে না। ফলে চার্জ কম খরচ হবে।
৫. ব্যবহারের পর অ্যাপস বন্ধ করুন
ঠিকমতো বন্ধ না করার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন অ্যাপস চালু থাকে, যেটা অনেকে খেয়াল করেন না। বিশেষ করে জিপিএস ও ওয়াই-ফাইয়ের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটা বেশি ঘটে। আর এ দুটি অ্যাপস চালু থাকলে দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যায়। তাই কাজ শেষ হওয়ার পর অ্যাপস বন্ধ করুন।
৬. অ্যাপস ডাউনলোড ও আপডেট
অ্যাপস ডাউনলোড ও আপডেটের ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করুন। মোবাইলের ডাটা ব্যবহার করলে চার্জ বেশি খরচ হবে, এ ছাড়া সময়ও যাবে বেশি। সে ক্ষেত্রে দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি অ্যাপসগুলো ডাউনলোড ও আপডেট হয়ে যাবে। মোবাইলের চার্জও কম খরচ হবে।
৭. এয়ারপ্লেন মোড চালু করুন
স্মার্টফোনটি এয়ারপ্লেন মোডে থাকলে সব ধরনের ওয়ার‍লেস ফিচার বন্ধ হয়ে যায়। এতে ফোনের চার্জ কম খরচ হয়।
৮. আসল ব্যাটারি ব্যবহার করুন
স্মার্টফোনের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে আসল ব্যাটারি ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে আপনার ফোন ভালো থাকবে এবং চার্জও থাকবে অনেকক্ষণ।